1

আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেন পদ্ধতিকে যুগোপযোগী করতে ডিজিটাল কমার্স নীতিমালার আদলে শিগগিরি একটি ডিজিটাল কমার্স সেল গঠনের দাবি জানিয়েছে ই-ক্যাব, বিসিএস, আইএসপিএবি ও বাক্য।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) এই চার সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো একটি যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ওপর আরোপিত ওটিএএফ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গর্ভনরকে ধন্যবাদ দেয়ার পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বার্থে আগামীতে অনলাইনে আন্তর্জাতিক লেনদেন আরো সহজতর করার গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুততার সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইসটি বিভাগ, টেলিকম মন্ত্রণালয় ও এনবিআর এবং বাণিজ্য সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি সেল গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
ডিজিটাল ব্যবসায়ের স্বার্থে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে এ বিষয়ে ‘একাট্টা’ হয়ে এগিয়ে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই চার সংগঠনের নেতারা। গত ২৩ নভেম্বর রাতে যৌথ বৈঠকে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতিকে সকলের স্বার্থে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আনায়নে নিজেদের প্রজ্ঞা ও পরামর্শ দিয়ে আগামীতেও এমন জাতীয় ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা। অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থাটিকে একটি জবাবদিহী ও দায়বদ্ধতার জায়গায় রেখেই কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেন অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে আমরা এ ধরণের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তারপরই যেন সরকার তা বাস্তবায়ন করে সে বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করছি। এক্ষেত্রে ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা অনুযায়ী, একটি কার্যকরী সেল গঠন করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে কেনা-বেঁচার পথকে আরো প্রশস্ত করতে ট্রাভেল কোটার অনুরূপ ‘ডিজিটাল কমার্স পেমেন্ট’ নামে আলাদা কোটা গঠনের দাবি জানাচ্ছি।
তফসিলি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে ডলার পরিশোধে বাধ্যতামূলক ওটিএএফ পূরণ প্রত্যাহার করা পর খাতসংশ্লিষ্টদের বিড়ম্বনা নিরসনে সবাইকে বিপদে না ফেলে এমসিসি কোড দিয়ে অবৈধ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পেমেন্টে প্রতিরোধ তৈরিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ডিজিটাল পদ্ধতি অবলম্বন করবে বলে প্রত্যাশা করছি। আমরা আশা করছি, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে উদ্ভূত সমস্যা এড়িয়ে চলবেন। এছাড়াও উদীয়মান ডিজিটাল কমার্স খাতকে এগিয়ে নিতে ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতিকে আরো সক্রিয় রাখতে একটি আলাদা ডেস্ক স্থাপন করবেন। পাশাপাশি সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে যখন বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদার আসনে উন্নীত হয়েছে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে গড় আয় বেড়েছে তখন ডলার ব্যয়ের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত অর্থনীতি নীতি গ্রহণ করে ব্যবসায় প্রকৃতি ও ভলিউম অনুযায়ী কার্ডে লেনদেনের সীমাকে বাড়িয়ে দেবে। কেননা এই ব্যয়ের মাধ্যমে পক্ষান্তরে দেশে রেমিটেন্সও আসছে। এই আয়-জনিত ব্যয়কে সীমায় আটকে না রাখলে অবৈধ পথে অর্থ লেনদেনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে বলেও আমাদের বিশ্বাস।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে ধানমন্ডি’র ই-ক্যাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়। ই-ক্যাব, বিসিএস, বাক্য এবং আইএসপিএবি’র যৌথ উদ্যোগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমালের সঞ্চালনায় বৈঠকে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সংগঠন আইএসপিএবি-এর কোষাধ্যক্ষ সারোয়ার আলম শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) পরিচালক ফজলুল হক নিজ নিজ সংগঠনের সদস্যদের অনলাইন পেমেন্ট বিড়ম্বনা নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে ই-ক্যাব পরিচালক আশীষ চক্রবর্তী ও মোঃ সাহাব উদ্দিন, আইএসপিএবি পরিচালক, মোঃ নাসির উদ্দিন, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ওই বৈঠক শেষে অনলাইনে বৈদেশিক লেনদেন সহজীকরণের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা সহ চার সংগঠনের সভাপতির স্বাক্ষরিতি একটি পত্র রোববার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হয়েছে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন দিয়ে নীতিমাল শিথিল করা হয়েছে। এ পর্যায়ে অপরাপর দাবিগুলোও ডিজিটাল গতিতে বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রত্যাশা করছে ই-ক্যাব, বিসিএস, বাক্য ও আইএসপিএবি।