amazon

ক্রস বর্ডার ই-কমার্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন দেশের ই-কমার্স খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, এই সুবিধাটি বাস্তবায়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্য সেবার প্রসার বাড়বে। পাশাপাশি দেশের ই-কমার্স খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এবং এরিয়া-৭১ এর যৌথ আয়োজনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের সেলারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত “বৈশ্বিক সেলার সম্মেলন” এ এমনটাই জানান বক্তারা।

রাজধানীর আগারগাঁও -এ বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (বিবিএস) অডিটোরিয়ামে শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এই সম্মেলনে সারাদেশ থেকে প্রায় দু’শরও বেশি ই-কমার্স ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অ্যামাজন এর আন্তার্জাতিক ব্যবসায় সম্প্রসারণ বিভাগের নির্বাহী মি. শশাঙ্ক পান্ডে, দেশে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জাতীয় সংগঠন ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল এবং এরিয়া-৭১ এর প্রতিষ্ঠাতা আহসান হাবিব, পেওনিয়ার বাংলাদেশ প্রতিনিধি অমিত অরোরা, ই-পোস্ট বাংলাদেশ অফারেশন ম্যানেজার শাওন সাহা জয় প্রমুখ।

পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কিভাবে অ্যামাজনে ব্যবসায় করা যায়,  প্রোডাক্ট সোর্সিং করা যায় কিংবা প্রোডাক্ট তৈরি করে সেটি বিক্রি করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করেন  অ্যামাজন এর আন্তার্জাতিক ব্যবসায় সম্প্রসারণ বিভাগের নির্বাহী মি. শশাঙ্ক পান্ডে।

সম্মেলনে ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে ব্যবসায়-বাণিজ্যে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে ই-কমার্স। তখন নির্দিষ্ট কোনো সীমানায় ব্যবসায়-বাণিজ্য আটকে থাকবে না। আজ ইন্টারনেটের কল্যাণে সহজেই প্রবেশ করা যাচ্ছে বৈশ্বিক বাজারে। এই বাজারকে লক্ষ্য করেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। সঙ্গত কারণেই দেশে ক্রস বর্ডার ই-কমার্স চালু এখন সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে। ই-ক্যাব সারকারের নীতি নির্ধারণ পর্যায়ে সেই বার্তা ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দিয়েছে। ই-কমার্স নীতিমালা তৈরীতে ডিজিটাল বাংলাদেশ রুপকল্প বাস্তবায়নকারী সরকারের সঙ্গে নিবিঢ়ভাবে কাজ করেছে। এবার তা বাস্তবায়নের পাশাপাশি এই খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথকে উন্মুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আশা করা যায়, ক্রস বর্ডার ই-কমার্স বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় তরুণদের মেধাকে জনশক্তিতে রূপান্তর সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুই বছরে এক লাখ ই-কমার্স উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে কাজ করছে ই-ক্যাব। আশা করা যাচ্ছে এরাই ক্রস বর্ডার ই-কমার্স এর মাধ্যমে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় ও ব্র্যান্ডকে বিশ্বদুয়ারে মেলে ধরবে। বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি নতুন ফানেল তৈরি করবে।

আলোচনায় পেওনিয়ার কী ভাবে বিক্রিত পণ্যের টাকা দেশে আনবেন তা তুলে ধরেন পেওনিয়ার বাংলাদেশ প্রতিনিধি অমিত অরোরা।

অপরদিকে বাংলাদেশ ডাকঘরের মাধ্যমে বিদেশে পণ্য ডলিভারিতে ‘ই-পোস্ট’ এর নানা সুবিধার ওপর আলোকপাত করে ই-পোস্ট বাংলাদেশ অফারেশন ম্যানেজার শাওন সাহা জয়।

সম্মেলনে এরিয়া-৭১এর প্রতিষ্ঠাতা আহসান হাবিব বলেন,  বাংলাদেশে ই-কমার্স শিল্প গত ৭ বছর ধরে একটি দ্রুত বর্ধনশীল খাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অ্যামাজন সেলারদের অনলাইন ব্যবসায় সার্বিক সহযোগিতা করতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ টিম তাদের প্রশিক্ষিত করবে। এই টিমটি সেলারদের পাফরম্যান্স ম্যানেজমেন্ট, অর্ডার ম্যানেজম্যান্ট, সর্বোপরি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজমেন্ট; যেমন পণ্য লিস্টিং, মূল্য পরিবর্তন, মার্কেটিং এসব বিষয়ে সহযোগিতা করবে।