ecab-adda-0-696x465

গতকাল (আগস্ট ১৪, ২০১৫) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর উত্তরা মিট-আপ। উত্তরার একটি মিউজিক ক্যাফেতে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ মিট-আপ অনুষ্ঠিত হয়। ই-ক্যাব এর উত্তরার সদস্যগণ এ মিট-আপ এর আয়োজন করেন। সদস্যদের মধ্যে পরিচয় এবং নেটওয়ার্কিং তৈরি ছিল এ মিট-আপের মূল উদ্দেশ্য।

এ মিট-আপে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ই-ক্যাব এর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের সম্মাননা প্রদান, ই-ক্যাব এর কার্যনির্বাহী কমিটির নতুন সদস্যদের সাথে পরিচিতি, ই-ক্যাব সার্টিফিকেট প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং র‍্যাফেল ড্র। ই-ক্যাব এর উত্তরা মিট-আপ এর স্পন্সর ছিল-ব্রেনো ডট কম, ই-কুরিয়ার, কিনলে ডট কম, মনিহারি ই-শপ, সোনার কুরিয়ার সার্ভিস, দ্যা মল বিডি ডট কম, জেটাবাইট গ্যাজেটস, ই-কমার্স নিউজ সাইট ই-কম ভয়েস এবং জয়ীতা ডট কম।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন ই-ক্যাব এর সভাপতি, রাজিব আহমেদ। তিনি ই-ক্যাব এর উত্তরার সদস্যদের এরকম একটি সুন্দর আয়োজনের জন্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক, মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন। ই-ক্যাব গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তিনি সকলের সামনে তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমানে ই-ক্যাব এর নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা ১৮৮ এবং প্রতিদিন আরও নতুন প্রতিষ্ঠান ই-ক্যাব এ যোগদান করছে। এটা খুবই ইতিবাচক একটি ব্যাপার। আমরা চাই ই-কমার্সকে বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে। এ লক্ষ্যে আমরা ২০১৫ সালকে ই-কমার্স বর্ষ ঘোষণা করেছি এবং এপ্রিল মাসে ই-কমার্স মাস আয়োজন করেছি।” ই-ক্যাব উত্তরা মিট-আপ আয়োজনের জন্যে তিনি স্পন্সর এবং ই-ক্যাব এর উত্তরার সদস্যদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে ই-ক্যাব এর ডিরেক্টর (ইন্টারন্যাশ আফেয়ার্স) তানভির এ মিশুক উত্তরা মিট-আপ আয়োজনের জন্যে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ই-ক্যাব এর কার্যনির্বাহী কমিটির নতুন সদস্য হিসেবে তিনি নিষ্ঠার সাথে তাঁর দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দেন। পরে তিনি ই-ক্যাব এর সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হন।

এরপরে ই-ক্যাব এর উপদেষ্টা কমিটির তিনজন সদস্যকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সদস্যরা হলেন-মোস্তাফা জব্বার, শাফকাত হায়দার এবং মোহাম্মদ ইকবাল জামাল। ই-ক্যাব সভাপতি উপদেষ্টাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

মোহাম্মদ ইকবাল জামাল ই-ক্যাব সদস্যদের এ মিট-আপ আয়োজনের জন্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, “ই-ক্যাব একটি নতুন সংগঠন কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটি ভালভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ই-ক্যাব এর যাত্রা সবে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে ই-কমার্সের বিশাল সম্ভাবনা থাকলে এটি এখনো একটি প্রতিষ্ঠিত সেক্টর নয়। নানা সমস্যায় এ সেক্টর জর্জরিত। এসব সমস্যাকে জয় করে ই-কমার্সকে প্রতিষ্ঠিত করা ই-ক্যাব এর জন্যে বিশাল একটি চ্যালেঞ্জ। আমি আশা করি ই-ক্যাব খুব সফলভাবে এসব চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করবে।”

শাফকাত হায়দার বলেন, “ই-কমার্স এবং ই-কমার্সের সম্ভাবনা নিয়ে এখন আর নতুন করে কিছুই বলার নেই। ই-কমার্সকে এগিয়ে নেবার এখনি সময়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন ই-কমার্স পুরোদমে চালু হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় সমস্যা হচ্ছে। অনেকে শুরু করার পর আর চালাতে পারে না এবং এক পর্যায়ে লস হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এর একটা প্রধান কারণ হচ্ছে ই-কমার্স সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার অভাব। অনেকে হুজুগে পড়ে এ হঠাৎ করে ব্যবসা শুরু করে দেয়। সাধারণ মানুষ যাতে ই-কমার্স সম্পর্কে ভালভাবে জেনেশুনে এ ব্যবসা শুরু করতে পারে ই-ক্যাব সেদিকে লক্ষ্য রাখবে।”

মোস্তাফা জব্বার বলেন, “একটি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে তারা যে ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিত্ব করে তা উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া। ই-ক্যাব এ ব্যাপারে প্রথম থেকেই সচেষ্ট। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ঘোষণা প্রদান করে। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ আর কোন নিছক আন্দোলন নয়। আমাদের দেশকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে ডিজিটাল বাংলাদেশের কোন বিকল্প নেই এবং ই-কমার্স এ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের প্রধান শর্ত। আমাদের দেশে অদূর ভবিষ্যতে এমন একটি সময় আসবে যে ই-কমার্স বলে আলাদা কিছুই থাকবে না। সব কিছুই ই-কমার্স হয়ে যাবে।

তিনি ই-ক্যাব ব্লগের প্রশংসা করে বলেন, “ব্লগে নিয়মিত ই-কমার্সের ই-ক্যাব এর উচিত হবে তরুণ ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্যে একটি ই-কমার্স ম্যানুয়েল প্রকাশ করা।”

অনুষ্ঠানের এ অংশে ই-ক্যাব উপদেষ্টাগণ ই-ক্যাব এর সদস্য এবং যারা ই-ক্যাব এ নানাভাবে অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে প্রশংসা পত্র বিতরণ করেন।

এরপরে ছিল সাইট উদ্বোধন। কেক কেটে ই-কমার্স নিউজ সাইট ই-কম ভয়েস এবং বিলদাও ডট কম উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের বিনোদনের জন্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্যাণ্ডদল সমীকরণ গানে গানে সকলকে মাতিয়ে তোলে। সবশেষে আয়োজন করা হয় র‍্যাফেল ড্র। বিজয়ীদের মধ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি, ঘড়ি সহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ই-ক্যাব এর যুগ্ম সম্পাদক রেজওয়ানুল হক জামী এবং নির্বাহী পরিচালক, ফেরদৌস হাসান সোহাগ।

ওয়েবসাইট: e-cab.net
ফেইসবুক: www.facebook.com/groups/eeCAB