বস্ত্রশিল্পে জামদানি বাঙলা ও বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প বাঙালির স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হওয়ার কাল থেকেই বিলুপ্তির পথে চলতে থাকে এবং উনবিংশ শতাব্দীর মাঝপথে ইংরেজ শাসিত বাংলায় এসে এর চলা আরো মন্থর হয়ে যায়। কিন্তু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাঙালি বস্ত্রশিল্পে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জামদানি উত্পাদনে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে। সে উদ্যোগের ফলেই এককালের দক্ষ কারিগর ও শিল্পীরা তাদের স্মৃতি ভরসা করে করে মসলিন বস্ত্র বয়নের এককালের প্রধান কেন্দ্র আজকের সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও, আড়াইহাজার ইত্যাদি এলাকার কয়েকটি গ্রামে জামদানি তৈরি শুরু করে। সেই থেকে হাঁটি হাঁটি পা-পা করে জামদানি শিল্পটি বর্তমান পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।

তবে দুঃখজনক  হলেও সত্যি যে যেমনটি হওয়া উচিত ছিলো জামদানী শিল্পের, তেমনটি হচ্ছে না। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা এবং

একজন জামদানি শিল্পী প্রকৃত অর্থেই শিল্পী। বহু মেধা ও শ্রমের সাথে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে জামদানি তৈরি করেন তারা।  শ্রমের মূল্য হিসেবে যোগ্য প্রাপ্য মূল্য পাচ্ছেন না আমাদের জামদানী কারিগর রা। ফলে অনেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এই পেশাটি। এভাবে চলতে থাকলে এমন দিন খুব বেশী দূরে নেই, যেদিন মসলিনের মতো জামদানীও আমাদের যাদুঘরের কাঁচের পাত্রের ভিতর শোভা পাবে প্রদর্শনের জন্য, যা কারো কাম্য হতে পারে না।

এই শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব শুধু সরকারের না, এই দায়িত্ব আমাদের সবার। জামদানী কে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করা এবং এর শিল্পীদের প্রাপ্য মর্যাদা দান করাই আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে পুঁজি করেই আমাদের যাত্রা শুরু হলো।

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*