5ec121af60cd2

১৯৭১ এর অপরাজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর স্নেহভাজন, সাবেক এমএনএ অধ্যাপক মমতাজ বেগম- এডভোকেট (১৯৪৬-২০২০) আর নেই। ১৬ মে শনিবার দিবাগত রাত ১২.২০ মিনিটের সময় ধানমন্ডি (নর্থ রোড) এর নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। তিনি জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাবে) এর একজন সম্মানিত উপদেষ্ঠা হিসেবে তিনি সবসময় তরুন উদ্যোক্তাদের পাশে ছিলেন। জাতীয় মহিলা সংস্থার তথ্যআপা প্রকল্প তার হাত ধরেই বাস্তবায়িত হয়েছে। নারী উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় তিনি বেগম রোকেয়া পদক-এ ভূষিত হয়েছেন, পেয়েছেন আরো বহু সম্মাননা। অধ্যাপক মমতাজ বেগম বাংলাদেশ মহিলা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (১৯৭২) এবং পরবর্তীতে এর সহসভাপতির (১৯৮৭) দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মমতাজ বেগম  এর জন্ম ১৩ এপ্রিল ১৯৪৬। ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলায় জন্ম নেয়া এই বাঙালী নারী ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের সময় থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী মহিলা লীগের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬২ সালের হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ৬৯ এর গণ অভ্যুথ্থান ৭১ এর অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সহিত দর্শণশাস্ত্রে এমএ পাস করেন। তিনি ১৯৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পরিষদে সাত জন নারী প্রতিনিধির একজন ছিলেন এবং  স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম একজন নির্বাচিত  সদস্য ছিলেন । ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দুই মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের মতো তিনিও অংশ নেন। গ্যাজেট ২২৪১, সনদ-ম ৮২৩৭৮, মুক্তি বার্তা নং:০২১২০৪ ০৯৪৬।

মৃত্যুকালে তিনি তার ছেলেমেয়ে নাতি নাতনী ও বহু গুণগ্রাহী রেখে যান। তার কর্মময় জীবন জাতির জন্য অনুপ্রেরণামূলক আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হবে। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একজন গুনী ও ত্যাগী মানুষকে আমরা হারালাম। ই-ক্যাব হারালো একজন অভিভাবক।

আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আজ ১৭ মে বাদ যোহর বাংলার এই বীরনারীকে নামাযে জানাযা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে চীরবিদায় জানানো হবে।